মসনবীয়ে রুমী রঃ

মসনবীয়ে রুমী

হযরত মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী (রঃ)

বেশনু আয নে চুঁ হেকায়েত মী কুনাদ
ওয়ায জুদাঈহা শেকায়েত মী কুনদ।।
কান পাতিয়া শোন,বাঁশী কি অবস্থা বর্ণনা করিতেছে, বিরহ-বিচ্ছেদের অভিযোগ করিতেছে।

কেয ন্যায়াস্তাঁ তা মরা ব-বরীদাআন্দ
আয নফীরাম মর্দ ও যন নালীদাআন্দ।।
যখন হইতে আমাকে বাঁশবন হইতে বিচ্ছিন্ন করা হইয়াছে,আমার কান্না ও আর্তনাদে সকলই কাঁদিয়াছে।

ছীনা খাহম শরহা শরহা আয ফেরাক
তা বগুইয়াম শরহে দরদে ইশতিয়াক।।
বিরহ-বেদনায় যাহাদের বক্ষ বিদীর্ণ,আমার প্রেম-বেদনা প্রকাশের জন্য এমন চুর্ন-বিচুর্ন বক্ষেরই প্রয়োজন।

হার কাছে কু দূর মানদায আছলে খেশ
বায জুইয়াদ রোযগারে ওয়াছলে খেশ।।
যে ব্যক্তি আপন গোত্র হইতে দূরে অপসারিত হইয়া পড়িয়াছে,সে পুনরায় তাহার হারানো মিলন যুগ অন্বেষণ করে।

মান বাহার জমইয়াতে নালাঁ শুদাম
জুফত খোশহালাঁ ও বদ হালাঁ শুদাম।।
প্রতিটি জনসমাবেশে আমি রোদন করিয়াছি, ভালমন্দ সবার সাথেই মিলিত হইয়াছি।

ছেরে মান আয নালায়ে মান দূর নীস্ত
লেকে চশমো গোশরা আঁ নুর নীস্ত।।
অথচ আমার গোপন বেদনা আমার কান্না ও আবেগের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত,কিন্তু চক্ষু ও কর্ণের সেই জোতি নাই।

তন যে জানো জাঁ যে তন মসতুর নীস্ত
লেকে কাছরা দীদে জাঁ দসতুর নীস্ত।।
দেহ প্রাণ হইতে এবং প্রাণ দেহ হইতে লুক্কায়িত নহে;কিন্তু প্রাণকে কেহই দেখিতে পায় নে।(অথচ একে অপরের সাথে নিবিড় ভাবে জড়িত)
আতেশাস্ত ঈঁ বাংগে নায়ে ও নীস্ত বাদ
হারকে ঈঁ আতেশ না দারাদ নীস্ত বাদ।।
বাঁশীর এই সুর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ,মৃদু সমীরণ নহে;এই অগ্নি যাহার মধ্যে নাই তাহার মৃত্যুই শ্রেয়ঃ।

আতশে এশকাস্ত কান্দার ন্যয় ফেতাদ
জোশেশে এশকাস্ত কান্দার ম্যয় ফেতাদ।।
ইহা এশকেরই আগুন যাহা বাশিঁতে প্রজ্জলিত হইতেছে, ইহা এশকেরই মত্ততা যাহা শরাবে উতপন্ন হইতেছে।

ন্যয় হারীফে হারকে আয ইয়ারে বুরীদ
পর্দাহায়েশ পর্দাহায়ে মা দরীদ।।
যাহারা নিজ বন্ধু হইতে বিচ্ছিন্ন,বাশীঁ তাহাদের প্রকৃত বন্ধু,এই বাঁশির সুর আমাদের দিলের আবরণ ছিন্ন করিয়াছে।
১০
হামচু ন্যয় যহরে ও তিরইয়াকে কে দীদ
হামচু ন্যয় দমসায ওমুশতাকে কে দীদ।।
বাশীঁর মত বিষ এবং বিষনাশক ঔষধ কেহ দেখিয়াছ কি? বাশীঁর ন্যয় হিতৈষী বন্ধু ও উতসাহী আশেক কে দেখিয়াছে? (কেহই দেখে নাই)
১১
ন্যয় হাদীসে রাহে পোরখু মী কুনাদ
কিসসাহায়ে এশক মজনু মীকুনাদ।।
বাশীঁ রক্তময় (এশকের) পথের অবস্থা বর্ণনা করে এবং মজনুর অর্থাৎ আশেকদের এশকের কাহিনী শুনায়।।
১২
মহরমে ঈঁ হুশ জুয বে হুশ নীস্ত
মর যুবাঁরা মুশতারী চুঁ গোশ নীস্ত।।
সমগ্র সৃষ্টি হইতে বেহুশঁ ছাড়া এই সত্যিকারের হুঁশের সন্ধান কেহই পায় নাই,রসনার খরিদ্দার কানের মত আর কোন ইন্দ্রিয়ই নহে।।
১২
গর নাবুদে নালায়ে ন্যয় রা ছমর
ন্যয় জাহাঁরা পোর না করদে আজ শকর।।
বাঁশীর আহাযারীর যদি কোন ফল না থাকিত,তবে বাঁশী বিশ্বকে মারেফাতের মিষ্টি দ্বারা পরিপূর্ণ করিতে পারিত না।।

১৩
দর গমে মা রোযহা বেগাহ শুদ
রোযহা বা সুযহা হামরাহ শুদ।।
চিন্তা ও পেরেশানির অবস্থায় থাকিয়া আমার জীবনের দিনগুলিই বিফল হইল,সারা জীবনের সবগুলি দিনই একমাত্র জ্বালা-যন্ত্রনার সাথি হইয়া রহিল।।
১৪
রোযহা গার রফত গো রও বাক নীস্ত
তু-বঁমা আয় আঁকে চুঁ তু পাক নীস্ত।।
জীবনের এই দিনগুলি যদি বিফল ও বিনষ্ট হইয়াও থাকে, তবে বলিয়া দাও যে, “চলিয়া যাও” কোন ক্ষতি নাই। কেননা হে অনুপম পবিত্র (এশক) তুমিত আমার সংগে আছ। (আমার কোন পরওয়া নাই)
১৫
হারকে জুয মাহী যে আ-বাশ সায়র শুদ
হারকে বে রোযীস্ত রোযাশ দায়র শুদ।।
যাহারা মতস (অর্থাৎ আশেকে এলাহীর) গুণ বিহীন, তাহারা স্বল্প পানিতে তৃপ্ত।এই পথে যাহারা জীবিকাহীন তাহাদের জীবন অকাজে অবলুপ্ত।।
দর নাইয়াবদ হালে পোখতা হীচ খাম
পছ ছখুন কো তাহ বাইয়াদ ওসসালাম।।
অপরিপক্ষ ব্যক্তি কামেল ওলি আল্লাহগনের অবস্থা উপলব্ধি করিতে অক্ষম,কাজেই কথা ক্ষান্ত দিয়া সালাম বলিয়া বিদায় গ্রহণ করাই উত্তম।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.